বাংলার গঞ্জির কথা

আমদের যাত্রা শুরু ২০১৫ সালের পহেলা এপ্রিল থেকে।

অনেক অনেক দিন আগের কথা। তখন কার্লোস স্যান্টানার একটা টিশার্ট কেনার জন্য এইদিক সেইদিক ঘুরতাম। ধুম করে ফেব্রিক ডাই কিনে নিজেই টিশার্ট বানায় ফেললাম। টিশার্টের পিছে বড় করে লেখা কার্লোস স্যান্টানা। যাইহোক এইগুলা ছিল ছোটবেলার গল্প। বড়বেলায় এসে দেখলাম ফেলে আসা ছোটবেলাকেই আঁকড়ে একদল বুড়ো লোক পড়ে আছে এখনো। তারা এখনো মেটালিকা, আয়রন মেইডেন, শিকাগো বুলস, আই লাভ নিউইয়র্ক অথবা ফাক ইউ লেখা টিশার্ট পড়ে উত্তর আধুনিকতার মায়াজালে উশঠা খাচ্ছে দিন রাত। ভাবলাম আমার টিশার্ট আমি নিজে বানাবো। কারণ আমার ভাষার আধুনিকতা পাশ্চাত্ত্যের আধুনিকতার থেকেও অনেক বেশি কিছু। শুরু করলাম নিজের ডিজাইনে টিশার্ট। প্রথম টিশার্টের আইডিয়া ছোট ভাই ছ্যাম জাহানের। আমি যা সাহস করতে পারি নাই ছ্যাম অবলীলায় তাই দাঁড় করিয়ে দিলো। টিশার্টের বুক জুড়ে ফন্ট ওয়ার্কে লেখা “আগে লেবেল এ আয় পড়ে ফাঁপর ল”। দুই ভাই টিশার্ট পড়ে শহরময় ঘুরি। যেখানেই যাই পারলে টিশার্ট খুলে রেখে দেয়। তাদের এই টিশার্ট লাগবেই! নানা সময়ে নানাজনে আমগোরে গুতাগুতি কর্ছে, ভাই! এই টীশার্টগুলান আরও ছাপান না ক্যে??? ওব্বাই! ব্বাই! ওওওওব্বাই!!!…

এর পড়ে আমার আর ছ্যামের আরো অনেক ডায়লগ দেয়া টিশার্ট আসলো। নিজেরা পড়ি বন্ধুরে বিলাই। আমাদের কাজই হৈলো কথায় কথায় ডায়লগ বাইর করা। বাইরের কেউ যদি আমগোর কথাবার্তা দুইটা মিনিট খাড়ায়া শুনে, আর তার রসবোধ যদি থাকে হাডুর বাডিতে জমা, তাহলে তার কান দিয়া ধুয়া বের হইতে টাইম নিবে ম্যাক্সিমাম পাঁচ মিনিট।

যাই হউক, মাইনষের গুতাগুতিতে এবং এইরকম ব্যতিক্রমধর্মী টীশার্ট পইরা হাঁটাচলায় যেই ফাপড়, সেই ফাপড়টা লওয়ার কারণে… ঠিক করি, এই ব্যাপারটারে ব্যবসার পর্যায়ে নিয়ে যাব। কারণ কুল এবং রসিক পুলাপাইনের এখন অভাব নাই দেশে… তারা কনসেপ্টটারে আকড়ায়া ধর্বে। এর দুই একটা অন্তত ভালো দিক আমাদের মনে হয় আছে। একটা হল অন্তত যেমনেই হোকনা কেন বাংলাটা বুকে নিয়া পৃথিবী চষা যাবে। আর এই দেশের ট্যালেন্টেড আর্টিস্টরা বাংলাকে, বাংলাদেশকে আরেকবার বুকে তুলে ধরতে পারবে।

সেই অনুসারে, আম্রা ব্যবসার ধান্দা ঠিক করি। সাথে যোগ দেয় আরেক ভ্রাতৃসম বন্ধু চমৎকার মনের মানুষ প্রযুক্তিবিদ আনিসুল হক। নাম দেই “বাংলার গঞ্জি Tee of Bengal”. ইন্ডাস্ট্রিয়াল লেভেলে গিয়া এখন বাংলার গঞ্জির প্রতিটা গঞ্জি প্রডাকশান হয় শুরু থিকা শেষ পর্যন্ত আমাদের নিজস্ব কারখানায়… যদি জিজ্ঞাস করেন, “ফ্যেক্ট্রি পাইলি কৈ ফৈন্নির্পুৎ?।” তাইলে বলা দরকার, ভ্যা! আম্রা ভাইস্যা তো আসি নাই! আপ্নার বাংলার গঞ্জি যেই ফ্যাক্টরি বানায় ওই একি ফ্যাক্টরি বিশ্বের সব নাম করা ব্র্যান্ডের পোশাক বানায়। ইনফ্রেওরিটিতে ভোগার দরকার নাই। লেবেলই আছেন।

যারা অল্রেডি দুই-একটা গঞ্জি খরিদ করেছেন, তারা দেখেছেন, গঞ্জির ঘেডির কাছে বাংলার গঞ্জির নিজস্ব লোগো আছে। এই গঞ্জিগুলান আমাদের নিজস্ব চাহিদা ও ডিজাইন অনুযায়ীই তৈরি হয়। একেবারে ডেডিকেটেড একটা টিম কাজ করে। ডিজাইন থেকে ফিনিশিং পর্যন্ত। ওয়ান রুফটপ সলিউশন। আমাদের ডিজাইনে ক্যালিগ্রাফি, গ্রাফিত্তি এবং নানারকম ডিজাইনের সমাহার আছে। আম্রা বিভিন্ন শিল্পী (যাদের রসবোধ ভালো আর কি)-দের সিগ্নেচার সিরিজও বের করি। বাংলাকেই সমৃদ্ধ করবো এইটাই শপথ।

বর্তমানে আম্রা শুধুমাত্র স্ক্রিণপ্রিন্টের কাজ করলেও এইডা আস্তে আস্তে আরও নানাদিকে শাখা বিস্তার কর্বে ভেরি সুন ইনশাআল্লাহ! ইংরেজিতে F**K YOU লেখা কিংবা NO FEAR লেখা গঞ্জি পইরা আর কতো ঘুরবেন? আসেন নিজের ভাষার, নিজের কথাবার্তার ইশটাইলের ধরণ ফুটিয়ে তুলি।

যেহেতু এইডা আমগোর ব্যপ্সা, সুতরাং, বাংলার গঞ্জি আপ্নেদের যেকুনুপ্রকার প্রশংসা, হতাশা, সমালোচনা শুনতে আগ্রহী। আপ্নাদের পাশে থাকাই আমাদের সাহস আর প্রেরনা। বাংলার গঞ্জির নিজস্ব কোন ভাষা নেই। আমরা আপ্নাদের ভাষাতেই কথা বলি। আপ্নাদের ভাষাই আমাদের শুদ্ধতম আত্মপরিচয়।

– বাংলার গঞ্জি

Production Line
Box
Label